বুধবার । ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২

রমজান তাকওয়া অর্জনের মাস

ড. আবু যুবায়ের

আজ ৭ রমজান। রমজান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস। মহান আল্লাহ জাল্লাশানুুহ্ পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন, “হে ইমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো (বাকারা : ১৮৩)।”

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া হাসিল করা। তাকওয়া আরবি শব্দ। এর বাংলা অর্থ হলো পরহেজগারি বা নিজেকে কোনো কিছু থেকে বাঁচিয়ে রাখা।

তাকওয়া কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশিষ্ট সাহাবী উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “যদি কেউ কোনো কণ্টকাকীর্ণ রাস্তায় চলে, তাহলে সে নিজেকে এবং তার পোশাককে প্রতি পদে পদে বাঁচিয়ে রাখে, যাতে কাঁটা তার গায়ে না বিঁধে এবং কাঁটার খোঁচায় তার পোশাক ছিন্নভিন্ন না হয়। এটাই হলো তাকওয়া। একজন প্রকৃত মুমিন ব্যক্তিও সর্বপ্রকার পাপ-পঙ্কিলতা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে, এটাই রোজার লক্ষ্য। আমরা অনেক সময় খুব কষ্ট করে হলেও রোজা পালন করি, কিন্তু নিজেকে গুনাহ থেকে পরহেজ করি না। এতে রোজার আসল উদ্দেশই ব্যর্থ হয়। মহাপরাক্রমশালী আল্লাহপাকের ভয়ে সমস্ত নাজায়েজ কাজ থেকে বেঁচে থাকার নামই তাকওয়া। যারা তাকওয়া অর্জন করে তাদের বলা হয় মুত্তাকি। আর মুত্তাকিদের জন্য পরকালে রয়েছে অঢেল প্রতিদান ও পুরস্কার।

জান্নাতে তাদের দেওয়া হবে অগণিত নেয়ামত। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন মাজিদে মুত্তাকিদের পুরস্কার ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, “নিশ্চয় মুত্তাকিদের জন্য রয়েছে সাফল্য। উদ্যান, আঙুর; সম-বয়স্ক, পূর্ণ-যৌবনা তরুণী এবং পূর্ণ পানপাত্র। তারা সেখানে অসার ও মিথ্যা কথা শুনবে না। এটা আপনার পালনকর্তার তরফ থেকে যথোচিত প্রতিদান (সূরা আন নাবা : ৩১-৩৬)।

কুরআনের আরও অনেক আয়াত এবং অসংখ্য হাদিসে মুত্তাকিদের পুরস্কার ঘোষণা করে বলা হয়েছে যে তারা নানাবিধ উত্তম পানাহার, ফলমূল, আঙুর, বাগবাগিচা, নয়নাভিরাম অট্টালিকা, বালাখানা, শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ এবং সবচেয়ে বড় জিনিস আল্লাহর চির সন্তুষ্টির মধ্যে থাকবে। এই দুনিয়ায় সবাই চায় তার ধন সম্পদ অঢেল হোক, উত্তম পানাহার হোক, নয়নাভিরাম বাসস্থান হোক, চাকর-নখর পরিবেষ্টিত বাদশাহী থাকুক, সুশ্রী চিরযৌবনা স্ত্রী হোক ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এগুলো অবাস্তব কিছু নয়; সবই মানুষের স্বভাবগত কামনার বস্তু। মহান আল্লাহ তায়ালাই মানুষের অন্তরে এগুলোর চাহিদা ও বুঝ দান করেছেন যাতে সে পরকালের পুরস্কারের ব্যাপারে আন্দাজ করতে পারে। তবে এগুলো দুনিয়াতে কখনই পূরণ হবে না। কারণ দুনিয়া ভোগ বিলাসের জায়গা না, এটা আমলের জায়গা। ভোগ-বিলাস ও কামনা-বাসনা পূরণের জায়গা হলো জান্নাত যেখানে মন যা চায় তাই পাওয়া যাবে। আল্লাহপাক আমাদের রমজানের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তাকওয়া হাসিলের সুযোগ দান করেন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন